দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার দালালচক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গবেষণাটি দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র, প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা, ৯৫ জন কর্মকর্তার মতামত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ থাকলেও মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা এটিকে আর্থিক অনিয়মের ফল বলে মনে করেছেন। গবেষণায় বলা হয়, অব্যয়িত অর্থের পেছনে কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতাই প্রধান কারণ।
অনুষ্ঠানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে অনেক সময় অবাস্তব শর্ত আরোপ করা হয়, যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হয়ে পড়ে আছে, যা শেষ পর্যন্ত অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের বাইরে রোগী পাঠানো, কমিশনভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং টেস্ট বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব কার্যক্রম বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে।
হামের টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে নিয়মিত টিকা সংগ্রহ ও ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের ৯৯ শতাংশই টিকা না পাওয়া। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সম্প্রতি এক লাখের বেশি শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে।
ডায়ালাইসিস সেবা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের স্মার্টফোন, সাইকেল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কিট দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, উচ্চতা, ওজনসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।
মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অডিটের নামে কোনো ধরনের ঘুষ দেওয়া যাবে না। কেউ অনৈতিক অর্থ দাবি করলে তা সরাসরি মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।
সিজারিয়ান অপারেশনের অপ্রয়োজনীয় প্রবণতা রোধে কঠোর নজরদারির কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না করেই পরিচালিত বিভিন্ন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/